ছোট্ট প্রশ্নোত্তরমুলক ধর্মশিক্ষা

The Small Catechism

ছোট্ট প্রশ্ন উত্তরমুলক ধর্মশিক্ষা

মার্টিন লুথার

সূচীপত্র

ভুমিকা

মুখবন্ধ

১.      দশ অজ্ঞা

২.      বিশ্বাস সূত্র

৩.     প্রভুর প্রার্থনা

৪.      পবিত্র বাপ্তিষ্মের সাক্রামেন্ট

৫.      পাপ স্বীকার

৬.     যজ্ঞবেদীর সাক্রামেন্ট

প্রতিদিনের প্রার্থনা

দায়িত্ব কর্তব্যের তালিকা

ভুমিকা

প্রতিটি গীর্জা, প্রতিটি যাজক এবং প্রতিটি খ্রিস্টানের একটি প্রশ্নোত্তরে ধর্মশিক্ষাদানের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যারা যিশু খ্রিস্টে বিশ্বাস করি যা আমরা বিশ্বাস করি সে সম্পর্কে তাদের জানা উচিত আর কিভাবে তা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করা যায় তাও জানা উচিত। বাইবেল যেহেতু আমাদের শিক্ষা দেয় সেহেতু যারা আমাদের বাইবেল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তাদেরকে সবসময় বাইবেলের বর্ণনা দেয়া এবং আমাদের মধ্যে থাকা আশা সম্পর্কে জানানোর জন্য আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকা উচিত (১ পিটার ৩:১৫)। যাজক থেকে শুরু করে সবচেয়ে ছোট বাচ্চার মধ্যে মৌলিক খ্রিস্টীয় শিক্ষা ও জ্ঞানকে অগ্রসর করার জন্য মার্টিন লুথার এই ছোট প্রশ্নোত্তরে ধর্ম শিক্ষাদানের বিষয়টিকে দক্ষতার সঙ্গে রচনা করেছেন।

খ্রিস্টান হিসেবে আমাদের কিভাবে বাঁচা উচিত সে সম্পর্কে দশটি ঐশী বিধান আমাদের শিক্ষা দেয়, ওগুলো আমাদের ব্যর্থতাগুলোকে দেখায়, আমাদের ত্রাতা হিসেবে খ্রিস্টের প্রয়োজনের বিষয়ে আমাদের দিক নির্দেশনা করে। খ্রিস্টীয় মতবাদের সারসংক্ষেপ আমাদের ঈশ্বর পিতা, পুত্র, এবং পবিত্র আত্মা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়; ঈশ্বর যা করেছেন এবং আমাদের জন্য যা করে যাচ্ছেন তা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত। প্রভুর প্রার্থনা আমাদের কীভাবে প্রার্থনা করতে হবে তা শেখায়, যেমন আমাদের প্রভু তাঁর শিষ্যদেও শিখিয়ে ছিলেন। প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাদানটির অংশগুলো বাপ্তিস্ম, কনফেশন বা পাপ স্বীকার, আর প্রভুর শেষ নৈশভোজ আমাদের শিক্ষা দেয় কিভাবে ঈশ্বর তাঁর করুণার মাধ্যমে আমাদের ক্ষমা করেছেন। সবশেষে, লুথারের সকালের এবং বিকালের প্রার্থনাগুলো, আর দায়িত্ব ও কর্তব্যের তালিকা, জীবনের নানা অবস্থানের জন্য বাইবেলের অনুচ্ছেদগুলোর একটি সংকলন, ঈশ্বরকে খুশি করে কিভাবে আমরা বাঁচব সে ব্যাপারে পুনরায় অমূল্য নির্দেশনা দেয়।

আমরা কিভাবে এই প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে শিক্ষাদানটি ব্যবহার করব? মার্টিন লুথার এ ব্যাপারেও আমাদের স্পষ্টভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। প্রতিটি পরিবারের প্রধান তার স্ত্রী, সন্তান, এবং চাকরদের এটি শিক্ষা দেবেন। প্রতিটি ধর্মসভায় যাজকগণ মানুষদের এটি শিক্ষা দেবেন। আর প্রতিটি ব্যক্তি এককভাবে তার অংশ হিসেবে প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাদানের কথাগুলো ঈশ্বরের সামনে স্মরণ রাখবে, আবৃত্তি করবে এবং স্বীকার করবে। যদিও এই ছোট প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাদানটির শিক্ষাগুলো মৌলিক তারপরেও এই জীবনদায়িনী শব্দগুলো আমরা অনেক সময় স্মরণ করতে পারব না।

মার্টিন লুথার তার একান্ত দিনগুলোতে যখন ব্যক্তিগত পরিদর্শনে ধর্মসভায় যেতেন তখন তিনি প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাদানের বিশাল প্রয়োজনের কথা খুঁজে পেয়েছিলেন। মুখবন্ধে তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণের কথা লিখেছেন: ‘সাধারণ মানুষেরা, বিশেষ করে গ্রামের লোকেরা খ্রিস্টীয় মতবাদ সম্পর্কে বাস্তবিক অর্থে কিছুই জানে না আর অধিকাংশ যাজক প্রায় পুরোপুরিভাবে শিক্ষা দানে অক্ষম। যদিও প্রায় সকল খ্রিস্টানকেই বাপ্তিস্ম করা হয়েছে আর তারা গীর্জার সদস্য হিসেবে পবিত্র দীক্ষা গ্রহন করেছেন। যদিও তারা প্রভুর প্রার্থনা, খ্রিস্টীয় মতবাদের সার-সংক্ষেপ বা দশটি ঐশী বিধি সম্পর্কে জানেন না।’

একটি প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাদান ছাড়া গীর্জাগুলোর অবস্থা নিশ্চিতভাবেই শোচনীয় হবে। ঈশ্বর যেন এমনটা না করেন!

সত্যি কথা বলতে, অতিরঞ্জন বা সন্দেহ ছাড়া, আমি সৎভাবে বলতে পারি যে যদি আমাদের ধর্মসভায় শুধুমাত্র লুথারের ছোট প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাদান বিষয়ে আমরা জানি এবং অনুসরণ করি আর ঘরেও তা অনুসরণ করি তাহলে আমরা দ্বন্দ্ব, হিংসা বা বিভক্ততার কোন কারণ দেখতে পাব না আর অন্ধকার পৃথিবীতে আমাদের গীর্জা বিষ্ময়কর আলোর দীপ্তি ছড়াবে যাতে এর উষ্ণতা এবং স্বস্তিতে সকল মানুষ আকর্ষিত হয়। ঈশ্বর আমাদের মধ্যে এমন একটি ভালো কাজ ছড়িয়ে দিক!

খ্রিস্টানদের উপকার লাভের জন্য এবং বিশেষ করে আমার অনুসারী লুথারীয়দের জন্য লুথারের এই ছোট প্রশ্নোত্তরে শিক্ষাদানের এই সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ায় আমি অনেক আনন্দ পেয়েছি। আমি আশা করি তারা এই অনুবাদ বিশ্বস্ত বলে মনে করবে, এটি স্পষ্ট এবং সহজে বোধগম্য, আর প্রতিনিয়ত মানসিক বা নৈতিক উন্নতির উৎস। ঈশ্বরের অনুগ্রহে বর্তমান সময়ের অন্ধকারের মধ্যে খ্রিস্টের আলো দীপ্তি ছড়াক। এ রকম যেন হয় এজন্য চলুন প্রার্থনা করি।

এডওয়ার্ড আর্থার নওমান

এলসিএমএস ধর্মতত্ত্ববিদ, দক্ষিণ এশিয়া

ডা: মার্টিন লুথারের মুখবন্ধ

মার্টিন লুথার, সমস্ত বিশ্বস্ত এবং ধার্মিক পালক এবং প্রচারকগণের প্রতি আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টে দয়া, অনুগ্রহ, এবং শান্তি তোমাদের হউক।

সম্প্রতি ম-লীগুলো পরিদর্শনের সময় আমি যে শোচনীয় এবং করুণ অবস্থাগুলো দেখেছি, তা আমাকে বাধ্য করেছে যেন আমি খ্রীষ্টিয় মতবাদকে একটি সংক্ষিপ্ত, সহজ এবং সরল এই ছোট প্রশ্ন উত্তমূলক ধর্ম শিক্ষা কাঠামোতে তুলে ধরি। আমি যে বিষয়গুলো দেখলাম, এটা কত শোচনীয়, তাই ঈশ্বর আমাকে সাহায্য কর। সাধারণ লোকেরা, বিশেষভাবে গ্রামের লোকেরা বলতে গেলে খ্রীষ্টিয় মতবাদ সম্পর্কে কিছুই জানে না এবং অনেক পালকেরাই শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত নয় এবং অক্ষম। এটি বলাও খুব বিব্রতকর। তথাপি যে সকল লোকদেরকে বাপ্তাইজিত করা হয়েছে এবং যারা পবিত্র সাক্রামেন্ট গ্রহণ করে, এমন কি যদিও তারা প্রভুর প্রার্থনা, প্রৈরিতিক বিশ্বাস সুত্র এবং দশ আজ্ঞা জানে না এবং অসহায় পশুদেরমতো দুবির্ষহ জীবন যাপন করে তাদেরকেও খ্রীষ্টিয়ান হতে হয়। এই লোকেরা যাই আয়ত্ত করে থাকুক না কেন ছোট ধর্ম শিক্ষা সমস্ত খ্রীষ্টিয় স্বাধীনতা টুকরো টুকরো করে ভাগ করার একটি সুন্দর কৌশল।

ওহ! বিশপগণ তোমরা! এই লোকদিগকে এত অবমাননাকর জীবন যাপন করতে দিয়ে এবং তোমাদের পরিচর্যায়, এমন কি এক মুহুর্তের জন্যও অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে কিভাবে তোমরা এই সমস্ত বিষয়ে খ্রীষ্টের সম্মুখে উত্তর দিবে? এক্ষেত্রে তো তোমরা শুধুই বিচারই আশা করতে পার, এই কথাটি কি তোমাদেরকে নাড়া দেয় না! কোন খারাপ কিছুই না হোক, কোন দুর্ভাগ্যই তোমাকে স্পর্শ না করুক, আমি আশা করি। তোমরা শুধু একই প্রকার সাক্রামেন্ট আদেশ কর, মানুষের উপায়ে সেগুলোকে পালন কর, এবং তথাপি লোকেরা প্রভুর প্রার্থনা, বিশ্বাস সুত্র, দশ আজ্ঞা, বা বস্তুত ঈশ্বরের বাক্য জানে কি না সে বিষয়ে তোমরা অসচেতন। দুঃখ, দুঃখ তোমাদের সারাজীবনের।

অতএব, প্রিয় ভাইয়েরা, ঈশ্বরের খাতিরে, তোমরা যারা পালক এবং প্রচারক আমি তোমাদের সকলের প্রতি বিনতি করছি, তোমরা তোমাদের আহবানের কাজে বিশ্বস্তভাবে নিবেদিত হও, যেন তোমরা সেই লোকদের প্রতি যাদেরকে তোমাদের যত্নের অধীনে রাখা হয়েছে তাদের প্রতি সহানুভুতি অনুভব কর এবং সেইভাবে তোমরা আমাদেরকেও সাহায্য কর এই ধর্ম শিক্ষা লোকদের হৃদয়ে পৌছে দিতে, বিশেষভাবে শিশুদের। যদি তোমরা এর চেয়ে বেশী কিছু করতে না পার তবে কমপক্ষে ধর্ম শিক্ষার সূচি এবং তালিকাগুলো নাও, নিম্মলিখিত উপায়ে লোকদেরকে বাক্য থেকে বাক্য শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং মুখসস্থ করার জন্য;

প্রথমত, পালকদের সর্বোচ্চ যত্নপূর্বক বিভিন্ন শাস্ত্রাংস এবং বিভিন্ন ধরণ বা কাঠামো অনুসরণ করে দশ আজ্ঞা, প্রভুর প্রার্থনা, বিশ্বাস সুত্র, সাক্রামেন্ট শিক্ষা দেওয়াকে এড়িয়ে যেতে হবে। সে এক অনুবাদকে অনুসরণ করুক এবং এর মধ্যে স্থির থাকুক এবং বছরের পর বছর পরিবর্তন না করে এটা ব্যবহার করুক। শিশুদের এবং অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে শিক্ষা দেওয়া উচিত, তা না হলে সহজেই তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে এবং এর পরিনতিতে আগের সমস্ত চেষ্টা এবং পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে। যদিও অনেকেরই মনে ইচ্ছা জাগতে পারে টেক্সকে উন্নয়ন করার জন্য, তবুও কোন পরিবর্তন না হউক।

সম্মানীত আদি পিতাগণ এটা ভাল করেই জানতেন এবং তাই তারা সকলে অবিরতভাবে প্রভুর প্রার্থনা, বিশ্বাস সুত্র, এবং দশ আজ্ঞার ক্ষেত্রে একই ধরণের কাঠামো ব্যবহার করেছেন। প্রভুর প্রার্থনা, বিশ্বাস সুত্র এবং দশ আজ্ঞা শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা যেমন করেছেন, আমাদেরকেও শিশুদের এবং সাধারণ লোকদেরকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি পাঠ্যসূচীও পরিবর্তন না করে বছরের পর বছর তাদেরকে একইভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত এবং এভাবে সেগুলো থেকে কোন উক্তি বা উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ও কোন রকম পরিবর্তন করা উচিত হবে না।

তাই যে কাঠামো তোমাদের পছন্দ তা বেঁছে নাও এবং পরে সবসময় এই কাঠামোতে স্থির থাক। যা হউক, যদি তোমাদের বিশেষ বিজ্ঞ, শিক্ষিত শ্রোতাদের সামনে প্রচার করতে হয়, সেই ক্ষেত্রে নিশ্চয় তোমরা আপনাদের শব্দ চয়ণের দক্ষতা অনুসারে যতটুকু সম্ভব সেগুলোকে রঙ্গীন এবং সুন্দরভাবে উপস্থান করতে পার। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট এবং স্থায়ী কাঠামো এবং শব্দ চয়ণ ব্যবহার কর এবং তাদেরকে প্রথমে সমস্ত দশ আজ্ঞা, বিশ্বাস সুত্র, প্রভুর প্রার্থনা ইত্যাদি শাস্ত্র অনুসারে, শব্দ যেভাবে আছে সেভাবে শিক্ষা দাও, যেন তারা তোমাদের পরে এটা পুনরাবৃত্তি করতে পারে এবং মুখস্থ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।

কিন্তু যারা সেগুলোকে শিখতে অস্বীকার করে, তাদেরকে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা খ্রীষ্টকে অস্বীকার করছে এবং তারা তাঁর লোক না। তাদের সাক্রামেন্ট গ্রহণের অনুমতি নাই, বাপ্তিস্মে তাদের কোন ভুমিকা নাই বা যে কোনভাবে খ্রীষ্টিয় স্বাধীনতা অনুশীলণ করার অনুমতি তাদের নাই। বরং এই সমস্ত করার পরিবর্তে তারা সাধারণভাবেই পোপ এবং তার কাজ কর্মে ফিরে যাওয়ার জন্য পরিচালিত হউক, এমন কি শয়তানের কাছেও। সেই সাথে, তাদের পিতা মাতা এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে খাদ্য এবং পানীয় দেওয়া থেকে অস্বীকার করুক, তাদেরকে স্পষ্ট করে বলা উচিত যে প্রিন্স তাঁর রাজ্য থেকে এই ধরণের কঠিন লোকদেরকে বের করে দেবেন।

অবশ্যই আমরা পারি না এবং আমাদের চেষ্টা করা উচিত না কারো উপর জোড় করে খ্রীষ্টিয়ান বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া। কিন্তু আমাদেরকে অবিচল ভাবে লোকদেরকে এর দিকে বিনতি করতে থাকা উচিত যেন তারা বিশ্বাস করে এবং তাদেরকে বুঝতে সাহায্য করা উচিত যেন তারা বুঝতে পারে যে সমাজে তারা বাস করতে চায় এবং তাদের জীবিকা রোজগার করতে চায় সেখানে কোনটা সঠিক এবং কেনাটা ভুল। একজন ব্যক্তি যে একটি নির্দিষ্ট শহরে বাস করতে চায় এবং এর সুবিধাদি ভোগ করতে চায়, তাকে সেখানকার আইন জানা এবং পালন করা উচিত, সে সেগুলোতে বিশ্বাস করুক বা না করুক বা এটা তার কাছে ভাল লাগুক বা না লাগুক তাকে সে দেশের আইন পালন করতে হয়।

দ্বিতীয়ত, শাস্ত্রংস (ধর্মশিক্ষার) ভালভাবে মুখস্থ করলে পর, সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করুন যেন তারা সেগুলো কি বলছে তা বুঝতে পারে। এই চার্টগুলোর বা আপনার পছন্দসই অন্য ধরণের সাধারণ পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে আপনার সময় নিয়ে এটা পুন পুন করুন; এটাতে স্থির থাকুন এবং এর একটি পাঠ্যসূচিও পরিবর্তন করবেন না, যেমন পূর্বে শাস্ত্রাংস সম্পর্কে বলা হয়েছে। কেননা সমস্ত কিছু একসময়েই শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নাই কিন্তু একটার পর অন্যটা শিক্ষা দেওয়া উচিত। প্রথম আজ্ঞার অর্থ ভালভাবে বুঝার পরই দ্বিতীয় আজ্ঞা এভাবে অন্যান্য বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত, অন্যথায়, তারা এত বেশী আছন্ন হয়ে পড়বে যে তারা কোন কিছুই স্মরণ করতে পারে না।

তৃতীয়, তাদেরকে এই ছোট ধর্ম শিক্ষা এরূপ শিক্ষা দেওয়ার পর, বড় ধর্ম শিক্ষা নিন এবং এটা ব্যবহার করুন তাদেরকে আরও বিস্তারিত এবং গভীর উপলদ্ধি দেওয়ার জন্য। এখানে, আমরা জানি একই শব্দ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা যায়, তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন শব্দসমুহ, কিভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, এর উপকারীতা, বিপদসমুহ, এবং যে কষ্ট জড়িত আছে তা সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটে একটি পুস্তক সেগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করেছে তা ব্যাখ্যা করে প্রত্যেক আলাদা আলাদা আজ্ঞা, আবেদন এবং অংশগুলোর উপর বিস্তারিত আলোচনা করুন।

বিশেষভাবে আপনার লোকেরা যে বিশেষ আজ্ঞা বা ধর্মশিক্ষার যে মতবাদ বেশী অবহেলা করেন তাতে লেগে থাকুন। উদাহরণস্বরূপ, কারখানার লোক এবং ব্যবসায়ী, কৃষক এবং কর্মচারীদের মধ্যে আপনি অবশ্যই সপ্তম আজ্ঞার উপর জোড় দিবেন, যা চুরি করতে নিষেধ করে কারণ এই ধরণের লোকদের মধ্যে অনেক প্রকারের অসততা এবং লুটপাত পরিলক্ষিত হয়। আবার শিশুদের এবং সাধারণ লোকদের মধ্যে আপনি অবশ্যই চতুর্থ আজ্ঞার উপর জোড় দিবেন, তাদেরকে বিনতি জানিয়ে এবং সর্বদা বাইবেল থেকে অনেক উদাহরণ ব্যবহার করে যে কিভাবে ঈশ্বর এমন লোকদেরকে শাস্তি দিয়েছেন এবং আশীর্বাদ করেছেন যেন তারা সুশৃংখল, বিশ্বস্ত, বাধ্য, এবং শান্তিপ্রিয় হয়।

আপনার বিশেষভাবে সেই লোকদেরকে যারা কর্তৃত্ব পর্যায়ে আছেন এবং পিতামাতাদের বিনতি করা উচিত যেন তারা শিশুদের ভালভাবে পরিচালনা করেন এবং তাদেরকে স্কুলে পাঠান। তাদেরকে দেখিয়ে দেন কেন এটা তাদের দায়িত্ব এমন করা এবং তাদেরকে ব্যাখ্যা করুন এটা একটা সাংঘাতিক পাপ যদি তারা এটা করতে ব্যর্থ হয়। কেননা এভাবে অবহেলা করে তারা ঈশ্বরের রাজ্য এবং তাঁর এই জগত উভয়ই বরবাদ এবং ধ্বংস করে এবং তারা নিজেদেরকে ঈশ্বর এবং মানুষের সবচেয়ে খারাপ শত্রু হিসাবে প্রমাণ করে। ছেলেমেয়েদেরকে পালক, প্রচারক, লেখক এবং এমন কিছু হতে গড়ে তুলতে সাহায্য না করায় তারা যে সাংঘাতিক ক্ষতি করে এবং কিভাবে ঈশ্বর তাদের শাস্তি দিবেন তা তাদেরকে ভাল করে বুঝিয়ে দিন। এই সমস্ত কিছু প্রচার করার প্রয়োজন রয়েছে। সত্যি বলতে, আমি অন্য কোনও বিষয় জানি না যা এর চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। কেননা এই ক্ষেত্রে পিতামাতারা এবং যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে তারা ভাষাতীতভাবে দোষী এবং পাপাত্মার মনেও এ নিয়ে সাংঘাতিক ষড়যন্ত্র আছে।

পরিশেষে, এখন পোপের স্বৈরাচারের শেষ, লোকেরা আর সাক্রামেন্টে যেতে চায় না কিন্তু এটাকে অবহেলা করে। এখানে বিনতি করা আবার জরুরী, যা হউক, এটা করতে হবে এই বুঝাপরা নিয়ে যে আমরা কাউকে বিশ্বাস করতে বা সাক্রামেন্ট নিতে জোড় করতে পারি না বা এর জন্য কোন নিয়ম স্থাপন বা সময় বা স্থান নির্ধারণ করতে পারি না। এর পরিবর্তে আমাদের প্রচার এমন হওয়া উচিত যেন লোকেরা নিজেদের ইচ্ছায় এবং আমাদের আদেশ ছাড়াই হৃদয়ে ভার অনুভব করেন এবং আমাদেরকে পালকদেরকে বলেন সাক্রামেন্ট দেওয়া জন্য। যেভাবে এটা করতে হবে, তাদেরকে বলুন যদি কেউ বছরে কমপক্ষে চারবার প্রভুর ভোজ নিতে না চান বা আকাংখা না করেন, তবে এটা ভয়ের বিষয় হবে যে, সে সাক্রামেন্ট অবহেলা করছে এবং সে খ্রীষ্টিয়ান নন, ঠিক তেমন যে কেহ সুসমাচার শুনেনা এবং বিশ্বাস করে না সে যেমন খ্রীষ্টিয়ান না। কেননা খ্রীষ্ট বলেন নি “এটা মুছে ফেলো” বা “এটা অবহেলা কর,” কিন্তু তিনি বলেছেন “তোমরা যতবার এটা পান কর, এটা পালন কর,” ইত্যাদি। তিনি নিশ্চিতভাবে চান যেন এটা করা হয় এবং তিনি এটা চান না যেন এটা না করা অবস্থায় পড়ে থাকে এবং অবহেলিত হয়। তিনি বলেন, “পালন কর”।

কেননা কোন এক ব্যক্তির সাক্রামেন্টকে গুরুত্বের সহিত মুল্য না দেওয়ার অর্থ হলো, সে বলে, তার কোন পাপ নাই, কোন মাংস নাই, কোন দিয়াবল নাই, কোন জগত নাই, কোন মৃত্যু নাই, কোন বিপদ নাই, কোন নরক নাই। অর্থাৎ, যদিও সে এই সমস্ত কিছু দিয়ে আছন্ন তবুও সে এই গুলোকে বিশ্বাস করে না এবং সে দিয়াবলের। অন্যদিকে, তার কোন দয়ার, জীবনের, স্বর্গের, স্বর্গরাজ্যের, খ্রীষ্টকে, ঈশ্বরকে বা কোন উত্তম জিনিসের প্রয়োজন নাই। নিশ্চিতভাবে, সে যদি চিহ্নিত করতে পারতো, বুঝতে পারতো যে তার মধ্যে কত মন্দতা রয়েছে, এবং কি পরিমান উত্তম জিনেসের, যা তার নাই, তা তার প্রয়োজন আছে, সে সাক্রামেন্টকে অবহেলা করতো না, যা মন্দতার বিরুদ্ধে আমাদের জন্য সাহায্য এবং প্রচুর পরিমানে উত্তমতা প্রদান করেন। তাকে আইনের দ্বারা জোড় করে সাক্রামেন্টে নিয়ে আসার প্রয়োজন হবে না কিন্তু সে স্বেচ্ছায় একটি তাড়া নিয়ে প্রভুর মেজের কাছে আসবে, এবং নিজেকে তুলে ধরবে এবং আপনাকে সাক্রামেন্ট দেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করবে।

অতএব, এই বিষয়ে কোন নিয়ম স্থাপন করার করবেন না, যেভাবে পোপ করে থাকেন। শুধুমাত্র সরলভাবে এর উপকারীতা, প্রয়োজনীয়তা, কার্যকারীতা এবং সাক্রামেন্টের মধ্যে আশীর্বাদ যুক্ত আছে, এটা অবহেলা করলে যে বিপদ এবং ক্ষতিসমুহ আছে তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরুন। তবেই লোকেরা আপনার জোড়াগুড়ি ছাড়াই তাদের নিজেদের ইচ্ছায় আসবে। কিন্তু যদি তারা তখনও না আসে,  তাদেরকে তাদের নিজেদের পথে যেতে দিন এবং তাদেরকে বলুন যে, যারাই তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের বিষয়ে এবং ঈশ্বরের দয়াশীল সাহায্যের বিষয়ে বিবেচনাহীন এবং অসচেতন তারা দিয়াবলের লোক। কিন্তু যদি আপনি এই সমস্ত বিষয়ে বিনতি করতে ব্যর্থ হন বা যদি এটাতে আপনি নিয়ম বা তিক্ততা সৃষ্টি করেন এবং তারা এই সাক্রামেন্ট অবহেলা করেন, তবে এই দোষ হবে আপনার। আপনিই যদি ঘুমিয়ে থাকেন এবং নিরব থাকেন তবে তারা কেন অলস হবে না? তাই, তোমরা যারা পালক এবং প্রচারক এর প্রতি খেয়াল রাখুন। আমাদের পরিচর্যা আজকে পোপের অধীনে যেমন ছিল তা থেকে ভিন্ন। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং রক্ষাকারী দায়িত্বে পরিনত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, আজকে এর সঙ্গে অনেক বেশী সমস্যা এবং শ্রম, বিপদ এবং নির্যাতন যুক্ত হয়েছে এবং সেই সাথে এটা আপনার জন্য জগতের কিছু সম্মান এবং পুরষ্কারও নিয়ে এসেছে। কিন্তু খ্রীষ্ট নিজে হবেন আমাদের পুরষ্কার যদি আমরা বিশ্বস্তভাবে পরিশ্রম করি। সমস্ত অনুগ্রহের পিতা আমাদের এই সমস্ত কিছু করতে সাহায্য করুন। আমাদের প্রভু খ্রীষ্টের মধ্যদিয়ে সমস্ত প্রশংসা এবং ধন্যবাদ তাঁরই হউক! আমেন।

১.  দশ আজ্ঞা

The Ten Commandments

পরিবারের প্রধান হিসাবে তার পরিজনদের সরল উপায়ে শিক্ষা দেওয়া উচিত।

প্রথম আজ্ঞা

আমা বিনা আর কাউকে ঈশ্বর বলে মান্য করো না।

তুমি আপনার নিমিত্তে খোদিত প্রতিমা নির্মান করিওনা; উপরিস্থ স্বর্গে, নীচস্থ পৃথিবীতে ও পৃথিবীর নীচস্থ জলমধ্যে যাহা যাহা আছে, তাহাদেও কোন মূর্তি নির্মান করিওনা; তুমি তাহাদের কাছে মাথা নত করিওনা এবং তাদের সেবা করিওনা।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমাদের সবকিছুর উপরে ঈশ্বরের প্রতি ভয়, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস রাখা উচিত।

দ্বিতীয় আজ্ঞা

ঈশ্বরের নাম অনর্থক লইও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় এবং প্রেম করব তাই আমরা কাউকে অভিশাপ দিব না, অযথা প্রতিজ্ঞা করব না, গুণমন্ত্রের ব্যবহার করব না অথবা তাঁর নামে কাউকে ঠকাব না বা প্রতারিত করব না কিন্তু যেকোন সমস্যার সময় তাঁর নাম ডাকব, প্রার্থনা করব, প্রশংসা করব এবং ধন্যবাদ দিব।

তৃতীয় আজ্ঞা

বিশ্রামবার পবিত্র বলিয়া মান্য করিও।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা সুসমাচারকে এবং তাঁর বাক্যকে হেয় জ্ঞান করব না, কিন্তু এটিকে পবিত্র বলে ধারণ করব এবং আনন্দের সহিত শ্রবণ করব এবং এটি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব।

চতুর্থ আজ্ঞা

তোমার পিতা মাতাকে সমাদর করিও, যেন তোমার মঙ্গল হয় এবং তুমি এই পৃথিবীতে দীর্ঘজীবি হও।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা আমাদের পিতা মাতাকে এবং কতৃপক্ষদের হেয় জ্ঞান করব না এবং তাদের রাগকে উসকে দিব না বরং তাদের সম্মান করব, তাদের সেবা করব এবং তাদের বাধ্য থাকব, তাদের প্রেম করব এবং তাদেরকে মূল্য দিব।

পঞ্চম আজ্ঞা

নর হত্যা করিও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের শারীরিক ভাবে আঘাত করব না, কিন্তু তাদেরকে সহায়তা করব এবং তাদের বন্ধু হব।

ষষ্ঠ আজ্ঞা

ব্যভিচার করিও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা কথায় এবং কাজে একটি পবিত্র এবং বিজ্ঞতাপুর্ণ জীবন যাপন করব এবং তাই স্বামী স্ত্রী হিসাবে আমরা একজন অন্যজনকে প্রেম করব এবং সম্মান করব।

সপ্তম আজ্ঞা

চুরি করিও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের টাকা পয়সা বা সম্পত্তি হরণ করব না এবং অসৎ উপায়ে তাদের কাছে ফায়দা লুটব না কিন্তু সে যেন জীবনে ভালভাবে চলতে পারে তার জন্য তার সম্পত্তি বৃদ্ধি এবং রক্ষা করার জন্য তাকে সাহায্য করব।

অষ্টম আজ্ঞা

তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা আমাদের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কোন মিথ্যা কথা বলব না, তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না বা আমাদের প্রতিবেশীর নামে বদনাম ছড়াব না বরং তার জন্য ছাড় দিব, তার সাথে ভালভাবে কথা বলব এবং সমস্ত কিছুতে সবচেযে ভাল গঠনমুলক পরামর্শ দিব।

নবম আজ্ঞা

প্রতিবেশীর কোন বস্তুতে লোভ করিও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা আমাদের প্রতিবেশীর অধিকারে থাকা বা তার প্রাপ্য কোন বস্তু বা অথবা তার ঘর অন্যায়ভাবে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করব না বা তার উপর কোনরুপ অধিকার স্থাপন করার চেষ্টা করব না বরং সে যেন সেগুলোকে রক্ষা করতে পারে সেজন্য তাকে সাহায্য এবং সহায়তা করব।

দশম আজ্ঞা

তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীতে বা তার ভৃত্যে বা তার গৃহে সাহায্যকারীতে বা তার গবাদীপশুতে বা তার যা কিছু আছে তাতে লোভ করি ও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা ঈশ্বরকে ভয় করব এবং প্রেম করব, তাই আমরা আমাদের প্রতিবেশীর কাছ থেকে তার স্ত্রীকে বা তার কর্মচারীদের ছিনিয়ে নিতে প্রলোভিত হব না বা বল প্রয়োগ করব না বরং তাদেরকে বিনতি করব যেন তারা তাদের সংঙ্গে থাকে এবং তাদের দায়িত্ব পালন করে।

এই আজ্ঞাসমুহ সম্পর্কে ঈশ্বর কি বলেছেন?

উত্তরঃ

সদাপ্রভু বলেন, “তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভ আমি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী ঈশ্বর; আমি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল সন্তানদের উপরে বর্তাই, যাহারা আমাকে দ্বেষ করে, তাহাদের তৃতীয় চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত বর্তাই; কিন্তু যাহারা আমাকে প্রেম করে ও আমার আজ্ঞা সকল পালন করে, আমি তাহাদের সহস্র পুরুষ পর্যন্ত দয়া করি।” (যাত্রা ২০:৫-৬)।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

যারাই এই আজ্ঞাসমুহকে লঙ্ঘন করবে সেই সকলকেই শাস্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বর হুমকি দিয়েছেন। অতএব, তাঁর ক্রোধকে এবং আমরা যেন এই আজ্ঞাসমুহকে লঙ্ঘন না করি সেই বিষয়ে আমাদের ভয় করা উচিৎ। অন্যদিকে যারাই তাঁর আজ্ঞাসমুহকে পালন করবেন তাদের সকলকেই তিনি তাঁর দয়া এবং সমস্ত আশির্বাদ দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছেন। এই কারণে আমাদের উচিত তাঁকে প্রেম করা এবং তাঁর উপর আস্থা রাখা এবং তাঁর আজ্ঞানুসারে জীবন যাপন করা।

২. বিশ্বাস সুত্র

The Creed

পরিবারের প্রধান হিসাবে তার পরিজনদের সরল উপায়ে শিক্ষা দেওয়া উচিত।

প্রথম প্রবন্ধ

সৃষ্টি

আমি সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, যিনি স্বর্গ ও পৃথিবীর নির্মাতা।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর আমাকে এবং সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন; তিনি আমাকে আমার দেহ এবং আত্মা, চোখ, কান এবং আমার সমস্ত অঙ্গ প্রতঙ্গ, জীবনের উদ্দেশ্য এবং আমার সমস্ত ইন্দ্রীয়সমুহকে দিযেছেন এবং এখনও তিনি সেগুলোকে যত্ন নিয়ে থাকেন। আমার যা আছে, খাদ্য এবং পানীয়, বস্ত্র এবং পাদুকা, ঘর এবং বাড়ী, স্ত্রী এবং ছেলেমেযে, জমি জমা, গবাদী পশু সমস্ত কিছুই দিয়েছেন। আমার এই দেহ এবং জীবনকে ভরণপোষন করার জন্য যা প্রয়োজন সেই সমস্ত দ্রবাদি তিনি প্রচুর পরিমানে এবং প্রতিনিয়ত যুগিয়ে দেন। তিনি আমাকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন এবং সমস্ত মন্দতা থেকে আমাকে প্রতিহত এবং সুরক্ষা করেন। তিনি এই সমস্ত কিছু করেন আমার কোন গুণের কারণে নয়, কোন যোগ্যতার কারণে নয় কিন্তু শুধুমাত্র তাঁর পিতা সুলভ, স্বর্গীয় উত্তমতা এবং দয়ার কারণে। এই সমস্ত কিছুর জন্য আমার দায়িত্ব হলো তাঁকে ধন্যবাদ দেয়া, তাঁর প্রশংসা করা এবং সেবা করা এবং তাঁর বাধ্য হওয়া। ইহা নিশ্চিতভাবে সত্য।

দ্বিতীয় প্রবন্ধ

পরিত্রাণ/ মুক্তি

এবং আমি বিশ্বাস করি যীশু খ্রীষ্টে, যিনি তাঁর একমাত্র পুত্র, আমাদের প্রভু, যিনি পবিত্র আত্মা দ্বারা গর্ভস্থ হয়েছিলেন, কুমারী মরিয়মের মধ্যদিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, পন্তীয় পিলাতের অধীনে যাতনা ভোগ করেছিলেন, ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন, মৃত্যু বরণ করেছিলেন এবং কবরস্থ হয়েছিলেন। তিনি পরলোকে নামিয়া ছিলেন। তৃতীয় দিবসে আবার মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠেছিলেন। যিনি স্বর্গে উপনীত হয়েছিলেন এবং সর্ব শক্তিমান পিতা ঈশ্বরের ডান পার্শ্বে বসে আছেন। সেখান থেকে তিনি সমস্ত জীবিত এবং মৃতদের বিচার করবার জন্য আবার আসবেন।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমি বিশ্বাস করি যে যীশু খ্রীষ্ট সত্য ঈশ্বর, অনন্তকালীন পিতা হতে জাত এবং সত্যিকারের মানুষ, কুমারী মরিয়মের গর্ভজাত, তিনি আমার প্রভু। যিনি আমার মতো একজন হারিয়ে যাওয়া এবং সাজা প্রাপ্ত মানুষকে পরিত্রাণ দিয়েছেন এবং আমার সমস্ত পাপ থেকে, মৃত্যু থেকে এবং দিয়াবলের শক্তি থেকে ক্রয় করেছেন এবং তাঁর অধিকারে নিয়েছেন, কোন স্বর্ণ বা রৌপ্য দিয়ে নয় কিন্তু তাঁর পবিত্র, অমুল্য রক্ত দ্বারা এবং তাঁর নিষ্পাপ যাতনা ভোগ এবং মৃত্যু দ্বারা। যেন আমি তাঁর নিজের হতে পারি এবং তাঁর অধীনে তাঁর রাজত্বে বাস করতে পারি এবং অনন্তকালীন ধার্মিকতায়, সরলতায় এবং পবিত্রতায় তাঁর সেবা করতে পারি, ঠিক যেভাবে তিনি মৃত্যু থেকে জীবত হয়েছেন, জীবিত আছেন এবং অনন্তকাল ধরে রাজত্ব করছেন। ইহা নিশ্চিতভাবে সত্য।

তৃতীয় প্রবন্ধ

মুদ্রাঙ্কিকরন

আমি পবিত্র আত্মায়, পবিত্র বিশ্বব্যাপি খ্রীষ্টিয়ান মন্ডলীতে, সাধুদের সহভাগীতায়, পাপের ক্ষমায়, দৈহিক পুনরুত্থানে এবং জীবনের অনন্তকালীনতায় বিশ্বাস করি। আমেন।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমি বিশ্বাস করি যে আমি আমার নিজের চেষ্টায় অথবা নিজের শক্তিতে যীশু খ্রীষ্টে, আমার প্রভুতে বিশ্বাস করতে পারি না বা তাঁর নিকটে আসতে পারি না; কিন্তু পবিত্র আত্মা সুসমাচারের মধ্য দিয়ে আমাকে আহবান করেছেন, তাঁর বরদানে আমাকে আলোকিত করেছেন, পবিত্রিকৃত করেছেন এবং আমাকে সত্যিকারের বিশ্বাসে ধরে রেখেছেন। ঠিক একই ভাবে তিনি পৃথিবীর সমস্ত খ্রীষ্টিয়ান ম-লীকে আহ্বান, আলোকিত, সমবেত এবং পবিত্রকৃত করেছেন এবং যীশু খ্রীষ্টেতে একমাত্র সত্যিকারের বিশ্বাসে ধরে রেখেছেন। এই খ্রীষ্টিয় ম-লীতে তিনি প্রতিদিন এবং তাঁর ধনাধ্যতায় আমার সকল পাপ এবং সকল বিশ্বাসীদের পাপ ক্ষমা করেন। শেষ দিনে তিনি আমাকে এবং সমস্ত মৃতগণকে উঠাবেন, এবং আমাকে এবং খ্রীষ্টে বিশ্বাসী সকলকে অনন্ত জীবন দিবেন। ইহা নিশ্চিতভাবে সত্য।

৩. প্রভুর প্রার্থনা

The Lord’s Prayer

কিভাবে পরিবারের প্রধান হিসেবে সাধারণ উপায়ে পরিবারের সকলকে এটি শিক্ষা দেয়া উচিত।

আমাদের পিতা, যিনি স্বর্গে থাকেন।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

ঈশ্বর এখানে নম্রভাবে আমাদেরকে আহবান করছেন যেন আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি আমাদের সত্যিকারের পিতা এবং আমরা তার সত্যিকারের সন্তান, যেন আমরা তাঁর কাছে আত্মবিশ্বাস এবং দাবী সহকারে যাঞ্চা করতে পারি, যেমন সন্তানেরা তাদের পিতার কাছে যাঞ্চা করে থাকে।

প্রথম আবেদন

তোমার নাম পবিত্র বলিয়া মান্য হউক।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

ঈশ্বরের নামের মধ্যেই নিশ্চিত পবিত্রতা আছে কিন্তু এই প্রার্থনায় আমরা প্রার্থনা করি যেন

এই নাম আমাদের মধ্যেও পবিত্র রাখি।

কিভাবে ঈশ্বরের নাম পবিত্র রাখা যায়?

উত্তরঃ

ঈশ্বরের নাম পবিত্র রাখা হয় যখন ঈশ্বরের বাক্য এর সত্যতায় এবং পবিত্রতার সহিত শিক্ষা দেয়া হয় এবং আমরা ঈশ্বরের সন্তান হিসেবে এই অনুসারে পবিত্র জীবন যাপন করি। এই বিষয় আমাদেরকে স্বর্গস্থ পিতার কাছে যোগ্য করে তোলে। কিন্তু যারা ঈশ্বরের বাক্যের শিক্ষা দেয় এবং তার বিপরীত জীবন যাপন করে, তারা আমাদের মধ্যে ঈশ্বরের নামকে অপবিত্র করে। স্বর্গস্থ পিতা এই সমস্ত হতে আমাদেরকে রক্ষা করো!

দ্বিতীয় আবেদন

তোমার রাজ্য আসুক।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

ঈশ্বরের রাজ্য অবশ্যই আমাদের প্রার্থনা ছাড়াই নিজে নিজেই আসতে পারে কিন্তু আমরা এই আবেদনে প্রার্থনা করি তা যেন আমাদের মধ্যেও আসে।

কিভাবে ঈশ্বরের রাজ্য আসে?

উত্তরঃ

ঈশ্বরের রাজ্য তখনই আসে যখন আমাদের স্বর্গস্থ পিতা আমাদেরকে তাঁর পবিত্র আত্মা  দান করেন, যেন তাঁর দয়ায় আমরা তাঁর পবিত্র বাক্যে বিশ্বাস করি এবং এখানে এই সময়ে এবং সেখানে অনন্তকালে পবিত্র জীবন যাপন করি।

তৃতীয় আবেদন

তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হউক, যেমনি স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হউক।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

ঈশ্বরের উত্তম এবং করুণাময়ী ইচ্ছা নিশ্চিতভাবে আমাদের প্রার্থনা ব্যতিরেকেই সিদ্ধ হতে পারে কিন্তু এই আবেদনে আমরা প্রার্থনা করি যেন তা আমাদের মধ্যেও সিদ্ধ হয়।

কিভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছা সিদ্ধ হয়?

উত্তরঃ

ঈশ্বরের ইচ্ছা সিদ্ধ হয় যখন তিনি দিয়াবলের, জগতের এবং পাপ স্বভাবের উদ্দেশ্য এবং সমস্ত মন্দ পরিকল্পনা প্রতিবন্ধকতা, যা আমাদেরকে ঈশ্বরের নামকে পবিত্র করতে দেয় না বা তাঁর রাজ্য আসতে দেয় না তা চূর্ণ করেন; এবং যখন তিনি আমাদেরকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর বাক্যে এবং বিশ্বাসে শক্তিশালী করেন এবং স্থির রাখেন। এটাই তাঁর উত্তম এবং করুণাময়ী ইচ্ছা।

চতুর্থ আবেদন

আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য আজ আমাদিগকে দাও।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমাদের প্রার্থনা ছাড়াও ঈশ্বর অবশ্যই প্রত্যেককে প্রতিদিনের খাবার যুগিয়ে দেন, এমন কি দুষ্টু লোকদেরকেও কিন্তু আমরা এই প্রার্থনায় আমরা প্রার্থনা করি যেন ঈশ্বর আমাদেরকে এটি বুঝতে সাহায্য করেন এবং ধন্যবাদের সহিত আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য গ্রহণের মানসিকতা দান করেন।

দৈনন্দিন খাদ্য বলতে কি বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ

দৈনন্দিন খাদ্য বলতে সেই সমস্ত কিছুকে বুঝায় যা আমাদের দেহকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজন। যেমনঃ খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র, জুতা, বাসস্থান, ঘর বাড়ী, জায়গা জমি, গবাদি পশু, টাকা পয়সা, মালপত্র, একজন নিবেদিত স্বামী বা স্ত্রী, নিবেদিত সন্তানাদি, কর্মীবৃন্দ, নিবেদিত এবং বিশ্বস্ত শাসক, উত্তম সরকার, ভাল আবহাওয়া, শান্তি, স্বাস্থ্য, আত্মনিয়ন্ত্রন, ভালো সম্মান, ভালো বন্ধুগণ, বিশ্বস্ত প্রতিবেশীগণ এবং এই রকম আরো অনেক কিছু কে বুঝায়।

পঞ্চম আবেদন

আর আমাদের অপরাধ সকল ক্ষমা করো, যেমন আমরাও আপন আপন অপরাধীদিগকে ক্ষমা করিয়াছি।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা এই প্রার্থনায় প্রার্থনা করি যেন আমাদের স্বর্গস্থ পিতা আমাদের পাপ সকল গণনা না করেন, বা সেগুলোর জন্য আমাদের প্রার্থনা অস্বীকার না করেন। আমরা যে বিষয়গুলোর জন্য প্রার্থনা করি তা পাবার জন্য না আমরা যোগ্য না আমরা উপযুক্ত, কিন্তু আমরা যাঞ্চা করি যেন তিনি তাঁর দয়ার কারণে সে সবগুলো আমাদেরকে দেন, কেননা আমাদের দৈনন্দিন পাপ এত বেশী যে আমরা শাস্তি ছাড়া আর কিছুরই যোগ্য নই। তাই আমাদেরকেও যারা আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায় করে তাদের প্রতি বিশ্বস্তভাবে এবং আনন্দ সহকারে মঙ্গল করতে হবে।

ষষ্ঠ আবেদন

আর আমাদের পরীক্ষাতে আনিও না।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

ঈশ্বর কাউকেই প্রলোভিত করেন না। আমরা এই প্রার্থনায় প্রার্থনা করি যেন ঈশ্বর আমাদেরকে সুরক্ষা করেন এবং আগলে রাখেন যেন দিয়াবল, জগৎ এবং আমাদের পাপ স্বভাব আমাদেরকে বিভ্রান্ত অথবা ভ্রান্ত বিশ্বাস, হতাশা এবং অন্যান্য লজ্জাকর এবং অধর্মের পথে ভুলভাবে পরিচালিত করতে না পারে। যদিও আমরা এই সমস্ত বিষয়ে আটকে আছি, আমরা প্রার্থনা করি যেন আমরা চুড়ান্তভাবে সেগুলোকে অতিক্রম করতে পারি এবং বিজয় অর্জন করতে পারি।

সপ্তম আবেদন

কিন্তু মন্দ হইতে রক্ষা করো।

এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

আমরা এই প্রার্থনায় প্রার্থনা করি, যার সারাংশ এই যে, আমাদের স্বর্গস্থ পিতা আমাদেরকে দৈহিক, আত্মিক, বিষয় সম্পত্তি এবং সম্মানের সকল মন্দতা থেকে উদ্ধার করবেন এবং অবশেষে, যখন সেই মৃত্যুর প্রহর আসবে, আমাদের জন্য একটি আশির্বাদের সমাপ্তি দেবেন এবং তার দয়া অনুসারে আমাদেরকে এই দুঃখ কষ্টের উপত্যকা থেকে তাঁর নিকটে স্বর্গে তুলে নিবেন।

কেননা রাজ্য, এবং পরাক্রম এবং মহিমা যুগে যুগে তোমারি।

আমেন।

“আমেন” এর অর্থ কি?

উত্তরঃ

এর অর্থ হচ্ছে যে আমারা অবশ্যই নিশ্চিত যে এই প্রার্থনাগুলো আমাদের স্বর্গস্থ পিতার কাছে গ্রাহ্য হয়েছে এবং তিনি তা শ্রবণ করেন। কেননা তিনি নিজেই আমাদেরকে এইভাবে প্রার্থনা করতে বলেছেন এবং প্রতিজ্ঞা করেছেন যে তিনি তা শ্রবণ করবেন। আমেন, আমেন: এর মানে হচ্ছে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, এটা অবশ্যই এইরুপ হবে।

৪. পবিত্র বাপ্তিষ্মের সাক্রামেন্ট

The Sacrament of Holy Baptism

কিভাবে পরিবারের প্রধান হিসেবে সাধারণ উপায়ে পরিবারের সকলকে এটি শিক্ষা দেয়া উচিত।

প্রথমত

বাপ্তিষ্ম কি?

উত্তরঃ

বাপ্তিষ্ম মানে শুধু সাধারণ জলে অবগাহিত হওয়া নয়, কিন্তু এই জলের সঙ্গে ঈশ্বরের আদেশ জড়িত এবং এর সঙ্গে ঈশ্বরের বাক্য সম্পৃক্ত।

বাপ্তিষ্ম সম্পর্কে ঈশ্বরের বাক্য এবং আদেশ কি?

উত্তরঃ

যীশু বলেছেন;   “স্বর্গ এবং পৃথিবীতে সমস্ত কর্তৃত্ব আমাকে দত্ত হইয়াছে, অতএব তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে তাহাদিগকে বাপ্তাইজ কর এবং আমি তোমদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি সেই সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও।” (মথি ২৮: ১৯ পদ)।

দ্বিতীয়ত

বাপ্তিস্ম কি উপকার করে?

উত্তরঃ

বাপ্তিষ্ম পাপের ক্ষমা, মুত্যু এবং দিয়াবল থেকে উদ্ধার এবং যারা বাপ্তিষ্মে বিশ্বাস করে তাদের সকলকেই অনন্তকালীণ পরিত্রাণ দিতে কাজ করে, ঠিক যেভাবে ঈশ্বরের বাক্য এবং প্রতিজ্ঞা ঘোষনা করে।

ঈশ্বরের এই বাক্য এবং প্রতিজ্ঞাসমুহ কোনগুলো?

খ্রীষ্ট আমাদের প্রভু বলেছেন: “ যে বিশ্বাস করে ও বাপ্তাইজিত হয়, সে পরিত্রাণ পাইবে; কিন্তু যে অবিশ্বাস করে, তাহার দন্ডাজ্ঞা করা যাইবে” (মার্ক ১৬: ১৬ পদ)।

তৃতীয়ত

কিভাবে জল এত মহান কাজ করতে পারে?

উত্তরঃ

এটা জল করে না কিন্তু এর মধ্যে এবং এর সঙ্গে যে ঈশ্বরের বাক্য আছে এবং বিশ্বাস, যারা বিশ্বাস করে যে জলের মধ্যে ঈশ্বরের বাক্য আছে সেই বিশ্বাসই তা করে। কেননা ঈশ্বরের বাক্য ব্যতিরেকে জল শুধুমাত্র সাধারণ জল এবং তা বাপ্তিষ্ম নয়। কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যের সাথে মিশে এটি বাপ্তিষ্ম হয় এবং তাই এটি একটি জীবনদায়ী জল, দয়ায় পরিপূর্ণ এবং পবিত্র আত্মায় নূতন জম্মের ধৌতকরণ, যেমন তীত ৩:৫-৮ পদে প্রেরিত পৌল বলেছেন: “কিন্তু আপন দয়ানুসারে, পুনর্জন্মের স্নান ও পবিত্র আত্মার নূতনীকরণ দ্বারা আমাদিগকে পরিত্রাণ করিলেন, সেই আত্মাকে তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা আমাদের উপরে প্রচুররূপে ঢালিয়া দিলেন; যেন তাহারই অনুগ্রহে ধার্মিক গণিত হইয়া আমরা অনন্ত জীবনের প্রত্যাশানুসারে দায়াধিকারী হই। এই কথা বিশ্বাসনীয়; আর আমার বাসনা এই যে, এই সকল বিষয়ে তুমি দৃঢ় নিশ্চয়তায় কথা বল; যাহারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী হইয়াছে, তাহারা যেন সৎকার্যে ব্যাপৃত হইবার চিন্তা করে। এই সকল বিষয় মনুষ্যদের পক্ষে উত্তম এ সুফলদায়ক।”

চতুর্থত

জলে এই রকম বাপ্তিষ্ম কি অর্থ প্রকাশ করে?

উত্তরঃ

জলে এরকম বাপ্তিস্মের অর্থ হলো, আমাদের মধ্যে যে পুরাতন আদমের স্বভাব রয়েছে তা, দৈনন্দিন প্রায়শ্চিত এবং অনুতাপের দ্বারা সমস্ত পাপ এবং মন্দ ইচ্ছার সহিত কবরস্থ এবং মেরে ফেলা, এবং একটি নূতন মনুষ্যের উত্থান এবং আবির্ভাব হওয়া যা ঈশ্বরের সম্মুখে চিরকাল ধার্মিকতায় এবং পবিত্রতায় জীবন যাপন করবে।

কোথায় এ বিষয়ে লেখা রয়েছে?

উত্তরঃ

সাধু পৌল রোমীয় ৬:৪ পদে লিখেছেনঃ “ অতএব আমরা তাঁহার মৃত্যুর উদ্দেশ্যে বাপ্তিষ্ম দ্বারা তাঁহার সহিত সমাধিপ্রাপ্ত হইয়াছি; যেন, খ্রীষ্ট যেমন পিতার মহিমা দ্বারা মৃতগণের মধ্য হইতে উত্থাপিত হইলেন, তেমনি আমরাও জীবনের নতুনত্বে চলি।”

৫.পাপ স্বীকার

Confession

কিভাবে খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা পাপ স্বীকার করবে-

পাপ স্বীকার কি?

উত্তরঃ

পাপস্বীকারের দুটি অংশ রযেছে। প্রথমত, আমরা আমাদের নিজেদের পাপ স্বীকার করি, এবং দ্বিতীয়ত, আমরা গ্রহণ করি ক্ষমা, অর্থাৎ পাপের ক্ষমা, পালকের কাছ থেকে ঠিক যেন ঈশ্বরের নিজের কাছ থেকেই, কোন সন্দেহ নিয়ে নয় বরং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস নিয়ে যে এর দ্বারা স্বর্গস্থ পিতার সামনে আমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে।

কোন ধরণের পাপগুলোকে স্বীকার করতে হবে?

উত্তরঃ

ঈশ্বরের সম্মুখে সমস্ত পাপের জন্য আমাদেরকে দোষ স্বীকার করতে হবে, এমন কি যেগুলোর সম্পর্কে আমরা জ্ঞত নই সেগুলোর জন্য স্বীকার করতে হবে, যেভাবে আমরা প্রভুর প্রার্থনায় করে থাকি কিন্তু পালকের সম্মুখে আমাদেরকে শুধুমাত্র সেই সমস্ত পাপগুলোকেই স্বীকার করা উচিত যেগুলোকে আমরা জানি এবং আমাদের অন্তরে অনুভব করি।

সেই পাপ কোনগুলো?

উত্তরঃ

এখানে দশ আজ্ঞা অনুসারে আপনি আপনার জীবনের পরিস্থিতি বিবেচনা করুন: আপনি একজন পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, নিয়োগকর্তা বা একজন কর্মী যেই হউন না কেন; আপনি কি কখনো অবাধ্য, অবিশ্বস্ত বা অলস হয়েছিলেন? আপনি কি কখনো বদ-রাগী, নিষ্ঠুর অথবা ঝগড়াটে হয়েছিলেন? আপনি কি কখনও আপনার কথা ও কাজ দ্বারা কাউকে আঘাত করেছেন? আপনি কখনও চুরি করেছেন, তুচ্ছ করেছেন, কোন কিছু অপচয় করেছেন বা কোন কিছু ক্ষতি করেছেন।

পাপ স্বীকারের একটি সাধারণ কাঠামো

সাধারণ ব্যক্তিদের জন্য

আপনি কনফেসরকে যেভাবে বলবেনঃ

প্রিয় স্বর্গের পিতা, আমি আমার পাপ স্বীকার করি এবং আমর পাপের ক্ষমা চাই তোমার ইচ্ছায় আমার পাপ ক্ষমা কর।

এইভাবে স্বীকার করবেঃ

আমি একজন অসহায় পাপী, সমস্ত পাপের জন্য ঈশ্বরের সম্মুখে আমি আমার দোষ স্বীকার করছি। বিশেষভাবে, আমি একজন দাস হিসাবে তোমার সম্মুখে স্বীকার করি যে, আমি দুঃখিত, আমি এখানে সেখানে আমার প্রভুকে বিশ্বস্তভাবে সেবা করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমাকে যা করতে বলা হয়েছিল আমি তা করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমি তাঁকে রাগান্বিত করেছি এবং অভিশাপ দিতে বাধ্য করেছি। আমি অনেক কিছুকে অবহেলা করেছি এবং ক্ষতি হতে দিয়েছি। আমি কথায় এবং কাজে আক্রমনাত্মক হয়েছি। আমি আমার সহকর্মীদের সাথে ঝগড়া করেছি। আমি গৃহের কত্রীর বিষয়ে সমালোচনা করেছি এবং তার ক্ষতি কামনা করেছি। আমি এই সমস্ত কিছুর জন্য দুঃখিত এবং আমি তোমার দয়া চাই। আমি আরও ভাল করতে চাই।

গৃহের একজন কর্তা বা কত্রী বলতে পারেন:

বিশেষভাবে আমি তোমার সম্মুখে স্বীকার করি যে আমি আমার সন্তানদের, দাসদের, এবং স্ত্রীকে ঈশ্বরের গৌরবের জন্য বিশ্বস্তভাবে পরিচালনা করি নি। আমি অভিশাপ দিয়েছি। আমি মূর্খ কথায় এবং কাজে একটি খারাপ উদাহরণ স্থাপন করেছি। আমি আমার প্রতিবেশীকে আঘাত করেছি এবং তাকে মন্দ কথা বলেছি। আমি কর্তৃত্ব পরায়ণতা করেছি, ব্যবসায় ঠকিয়েছি, এবং মুল্য পরিশোধের বিপরীতে কম দিয়েছি।

[তারপর, পাপ স্বীকারকারী ঈশ্বরের আজ্ঞাসমুহের এবং নিজের পদমর্যাদার বিরুদ্ধে যা কিছু করেছে তা স্বীকার করুক]

সে যাই হউক, যদি কেউ নিজের মধ্যে এই সমস্ত দোষগুলো খুঁজে না পায় বা আরও গুরুতর পাপগুলো খুঁজে না পায়, তবে তার সেই সমস্ত কিছু অনুসদ্ধানের জন্য বা অন্যান্য আরও পাপ উদঘাটন করার জন্য নিজের উপর জোড়াজুড়ি করা উচিত হবে না, এভাবে পাপ স্বীকারকে একটি নির্যাতনে পরিনত করা উচিত হবে না। এর পরিবর্তে সে যা জানে এমন এক বা দুটি বিষয় উল্লেখ করা তার উচিত। বিশেষভাবে, আমি স্বীকার করি যে আমি অভিশাপ দিয়েছি, আমি অনুপযুক্ত কথা ব্যবহার করেছি, আমি এটা সেটা তুচ্ছ করেছি, ইত্যাদি। এই সমস্ত কিছুতে থাকলেই যথেষ্ট।

কিন্তু যদি আপনি কোন কিছু মোটেই না জেনে থাকেন (এমন অবস্থা সাধারণত অসম্ভব) তবে তো কিছুই স্বীকার করার থাকে না, কিন্তু পাপ স্বীকার গ্রহণকারীর সম্মুখে ঈশ্বরের কাছে স্বীকার করা একটি সাধারণ পাপ স্বীকারের ক্ষমা হিসাবে পাপের ক্ষমা গ্রহণ করুন।

তারপর পাপ স্বীকার গ্রহণকারী বলবেনঃ

ঈশ্বর আপনার প্রতি অনুগ্রহশীল হউন এবং আপনার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করুন। আমেন।

তিনি আরও বলবেনঃ

আপনি কি বিশ্বাস করেন যে আমার ক্ষমা দানই হলো ঈশ্বরের ক্ষমা দান?

উত্তরঃ

হ্যাঁ, ফাদার।

তারপর পাপ স্বীকার গ্রহণকরারীকে বলতে দিনঃ

আপনি যেমন বিশ্বাস করেছেন আপনার প্রতি তেমনই ঘটুক। এবং আমি আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আদেশ অনুসারে, পিতা পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে আপনাকে এবং আপনার পাপ ক্ষমা করি। আমেন। শান্তিতে প্রস্থান করুন।

একজন পাপ স্বীকার গ্রহণকারী এর সাথে সম্পর্কযুক্ত আরও শাস্ত্রাংসগুলো জানবে যার সাহায্যে তিনি তাদেরকে যারা অন্তরে ভারী বোঝা অনুভব করছেন বা খুবই দুঃখার্ত এবং হতাশাগ্রস্থ তাদেরকে সান্তনা দিবেন। এটা পাপ স্বীকারের শুধুমাত্র একটি সাধারণ কাঠামো হিসাবে দেওয়া হয়েছে।

৬.যজ্ঞবেদীর সাক্রামেন্ট / পবিত্র প্রভুরভোজ

The Sacrament of the Altar

পরিবারের প্রধান হিসেবে সাধারণ উপায়ে যেভাবে পরিবারের সকলকে এটি শিক্ষা দেয়া উচিত-

যজ্ঞবেদীর সাক্রামেন্ট/পবিত্র প্রভুরভোজ কি?

যজ্ঞবেদীর সাক্রামেন্ট /পবিত্র প্রভুরভোজ হল রুটি এবং দ্রাক্ষারস রূপ আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রকৃত দেহ এবং রক্ত, যেটি খ্রীষ্ট নিজে আমাদের খ্রীষ্টীয়ানদের আহার এবং পান করতে বলেছেন। যা খ্রীষ্ট নিজে আমাদের জন্য, খ্রীষ্টিয়ানদের জন্য ভোজন ও পানের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন, রুটি ও রসের ভিতরেই আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সত্যিকারের দেহ এবং রক্ত।

কোথায় এ সম্পর্কে লিখিত আছে?

উত্তরঃ

পবিত্র সুসমাচার প্রচারক (মথি ২৬ঃ২৬, মার্ক ১৪ঃ২২, লুক ২২ঃ১৯), এবং সাধু পৌল (১ করিন্থীয় ১১ঃ২৩) এভাবে লিখেছেনঃ

আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট যে রাত্রিতে সমর্পিত হন, সেই রাত্রিতে তিনি রুটি নেন এবং ধন্যবাদ সহকারে ভাঙ্গেন এবং শিষ্যদেরকে দেন এবং বলেন “লও এবং গ্রহণ কর; ইহা আমার দেহ, যা তোমাদের জন্য দেওয়া হয়েছে। আমার স্মরনার্থে তোমরা ইহা করিও”।

সেই প্রকারে তিনি ভোজনের পর পান পাত্রও নিয়েছিলেন এবং ধন্যবাদ দিয়ে তিনি তা তাদেরকে এই বলে দিয়েছিলেন, “তোমরা সকলে ইহা পান কর, ইহা আমার রক্তের নূতন নিয়ম, যা তোমাদের পাপ মোচন করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে; তোমরা যতবার পান করিবে, আমার স্মরণার্থে ইহা করিও”।

যজ্ঞবেদীর সাক্রামেন্টের /পবিত্র প্রভুরভোজের উপকারিতা কি?

উত্তরঃ

এমন ভোজন এবং পান থেকে আমরা যে আশির্বাদ লাভ করি তা এই বাক্যগুলো প্রকাশ করে “পাপ মোচনের জন্য তোমাদের নিমিত্ত দেওয়া হয়েছে এবং পাতিত হয়েছে,” যথা এই সাক্রামেন্টের মধ্যে এই বাক্যগুলোর মধ্যে পাপ মোচনের ক্ষমা, জীবন এবং পরিত্রাণ দেওয়া হয়েছে। কেননা যেখানে পাপের ক্ষমা সেখানেই জীবন এবং পরিত্রাণ।

কিভাবে শারিরীক এই ভোজন এবং পান এ রকম একটি মহান কাজ সাধন করতে পারে?

উত্তরঃ

ভোজন এবং পান এমন মহান কাজ করে না, কিন্তু যে বাক্যগুলো এখানে লেখা আছে: “পাপ মোচনের জন্য তোমাদের নিমিত্ত দেওয়া হয়েছে এবং পাতিত হয়েছে,” এই বাক্যগুলোই ভোজন এবং পানের সাথে সেই মহান কাজ সাধন করে এবং এই বিষয়টাই এই সাক্রামেন্টের মুল বিষয়; এবং যারাই এই বাক্যগুলো যেভাবে বলা হয়েছে ঠিক সেইভাবে বিশ্বাস করে, যথা পাপ মোচনের নিমিত্ত হিসাবে বিশ্বাস করে তাই এই মহান কাজ সাধন করে।

কারা এই সাক্রামেন্ট যোগ্যতমভাবে গ্রহণ করে?

উত্তরঃ

উপবাস এবং শারিরীক প্রস্তুতিগুলো অবশ্যই চমৎকার বাহ্যিক প্রশিক্ষণ। কিন্তু সেই ব্যক্তিই সত্যিকারে উপযুক্ত এবং প্রকৃতভাবে প্রস্তুত যার এই বাক্যগুলোতে বিশ্বাস আছে, “পাপ মোচনের জন্য তোমাদের নিমিত্ত দেওয়া এবং পাতিত হয়েছে।”

কিন্তু যে কেউ এই বাক্যগুলোতে বিশ্বাস করে না বা সেগুলোকে সন্দেহ করে তারা অনুপযুক্ত এবং অপ্রস্তুত, কেননা এই বাক্যগুলো ‘তোমার জন্য’ সত্যিকারে বিশ্বাসী হৃদয় দাবী করে।

প্রতিদিনের প্রার্থনা

Daily Prayers

পরিবারের প্রধান হিসেবে সাধারণ উপায়ে যেভাবে পরিবারের সকলকে এটি শিক্ষা দেয়া উচিত-

প্রাতঃকালীন প্রার্থনা

সকাল বেলা যখন আপনি ঘুম থেকে উঠেন, পবিত্র ক্রুশের চিহ্ন করবেন এবং বলবেন:

পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।

তারপর, হাঁটু গেঁড়ে অথবা দাঁড়িয়ে ধর্মসুত্র এবং প্রভুর প্রার্থনা বলুন। আপনি চাইলে, এই ছোট প্রার্থনাও করতে পারেনঃ

আমার স্বর্গস্থ পিতা, তোমার প্রিয় পুত্র প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মধ্যদিয়ে আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিই যে তুমি এই রাত্রির সমস্ত বিপদ আপদ থেকে সুরক্ষা করেছ এবং আমি প্রার্থনা করি যে তুমি আমাকে এই দিনেও সমস্ত পাপ এবং মন্দতা থেকে দূরে রাখবে যেন আমার সমস্ত কাজ এবং জীবন তোমাকে সন্তুষ্ট করতে পারে। কেননা তোমার হাতেই আমি নিজেকে, আমার দেহকে এবং আত্মাকে এবং সমস্ত কিছুকে সমর্পণ করি। তোমার পবিত্র দুত আমার সঙ্গে থাকুক, যাতে আমার উপরে মন্দ শক্তির কোন ক্ষমতা না থাকে। আমেন।

তারপর আনন্দের সহিত দশ আজ্ঞা পাঠ বা একটি গীত গাইতে গাইতে আপনার কাজে যান বা আপনার প্রাতঃকালীন আরাধনা আপনাকে যেভাবে পরিচালনা করেন।

সান্ধ্যকালীন প্রার্থনা

সন্ধ্যবেলায় যখন আপনি ঘুমাতে যান, ক্রুশের চিহ্ন ধরে বলবেনঃ

পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।

তারপরে, হাঁটু গেঁড়ে অথবা দাড়িয়ে ধর্মসুত্র এবং প্রভুর প্রার্থনা বলুন। আপনি চাইলে, এই ছোট প্রার্থনাও করতে পারেনঃ

হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার প্রিয় পুত্র যীশু খ্রীষ্টের মধ্যদিয়ে আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিই যে তুমি তোমার দয়ায় আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছো; এবং আমি প্রার্থনা করি যে আমি যেখানে যেখানে ভুল করেছি, তুমি আমার সমস্ত পাপ ক্ষমা করবে, এবং তোমাদে দয়ায় এই রাত্রিতেও বাঁচিয়ে রাখবে। কেননা তোমার হাতেই আমি নিজেকে, আমার দেহ এবং প্রাণ, এবং সমস্ত কিছু । তোমার পবিত্র দুত আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকুক, যাতে আমার উপরে মন্দ শত্রুদের কোন ক্ষমতা না থাকে। আমেন।

তারপর একবারেই আনন্দ নিয়ে ঘুমাতে যান।

যেভাবে পরিবারের প্রধান তার সমস্ত গৃহের সদস্যদের আশীর্বাদ যাঞ্চা করতে এবং বিপরীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে শিক্ষা দিবে-

আশীর্বাদ যাঞ্চা করা

পরিবারের সদ্যরা এবং শিশুরা ভক্তিসহকারে খাবারের টেবিলের সামনে যাওয়া উচিত, এবং হাত জোড় করে বলা উচিত:

সকলের চক্ষু তোমার অপেক্ষা করে, তুমিই যথাসময়ে তাহাদিগকে ভক্ষ্য দিতেছ। তুমিই আপন হস্ত মুক্ত করিয়া থাক, সমুদয় প্রাণীর বাঞ্ছা পূর্ণ করিয়া থাক।

দ্রষ্টব্যঃ

‘বাঞ্ছা পূর্ণ করা’ অর্থাৎ সমস্ত প্রাণীর জন্য এত বেশি পরিমাণ আহার গ্রহণ করে যে তারা আনন্দিত এবং খুশিতে রয়েছে; যত্ন এবং লিপ্সা যেন সন্তুষ্টির জন্য বাধা।

তারপরে প্রভু প্রার্থনা এবং নিম্মে বর্নিত প্রার্থনা করবেঃ

সদাপ্রভু ঈশ্বর, স্বর্গস্থ পিতা, আমাদেরকে আশীর্বাদ কর এবং আমরা স্বীকার করি যে আমাদের যা কিছু আছে এই সমস্ত কিছুই প্রচুর পরিমানে যীশু খ্রীষ্ট, আমাদের প্রভুর মাধ্যমে তোমার কাছ থেকে পাওয়া দান। আমেন।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন

খাবার পরেও আবার সবাই একইভাবে ভক্তিভাবে এবং হাতজোড় করে বলবেঃ

তোমরা সদা প্রভুর ধন্যবাদ কর; কেননা তিনি মঙ্গলময়; তাঁহার দয়া অনন্তকাল স্থায়ী। তিনি সমস্ত প্রাণীকে আহার দেন; তাঁহার দয়া অনন্তকাল স্থায়ী। তিনি পশুকে তাহার খাদ্য দেন, দাঁড়কাকের শাবকদিগকে দেন, যাহারা ডাকিয়া উঠে। অশ্বের বলে তিনি আনন্দ করেন না, পুরুষের চরণেও সন্তুষ্ট হন না। সদাপ্রভু তাহাদের উপর সন্তুষ্ট, যাহারা তাঁহাকে ভয় করে, যাহারা তাঁহার দয়ার অপেক্ষায় থাকে।

তারপরে সবাই প্রভুর প্রার্থনা এবং নিম্মে বর্ণীত প্রার্থনা করবেঃ

স্বর্গস্থ পিতা, সদাপ্রভু ঈশ্বর, আমরা তোমাকে ধন্যবাদ দিই তোমার সমস্ত উপকারের জন্য যা তুমি আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মধ্যদিয়ে করেছ, যিনি জীবন্ত এবং যিনি তোমার সাথে এবং পবিত্র আত্মার সাথে চিরকাল রাজত্ব করেন। আমেন।

দায়িত্ব কর্তব্যের তালিকা

Table of Duties

বিভিন্ন পবিত্র আদেশ এবং অবস্থানের জন্য তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে সতর্ক করার জন্য বাইবেলে নির্দিষ্ট উদ্ধৃতি।

বিশপ,পালক এবং প্রচারকগণ

‘অতএব এটা আবশ্যক যে, বিশপ অনিন্দনীয়, এক স্ত্রীর স্বামী, মিতাচারী, আত্ম-সংযমী, সম্মানের যোগ্য, মেহমান সেবক এবং শিক্ষাদানে নিপুণ হবেন; তিনি যেন মদ্যপানে আসক্ত কিংবা প্রহারক না হন, কিন্তু শান্তভাব, নির্বিরোধ ও অর্থলোভ-শূন্য হন, আর নিজের ঘরের শাসন উত্তমরূপে করেন এবং সমপূর্ণ শিষ্টতার সঙ্গে সন্তানদেরকে বশে রাখেন। কিন্তু যদি কেউ ঘর শাসন করতে না জানে, সে কেমন করে ঈশ্বরের মণ্ডলীর তত্ত্বাবধান করবে? তিনি যেন নতুন ঈমানদার না হন, পাছে গর্বে স্ফীত হয়ে দিবালয়কে দেওয়া শাস্তির যোগ্য হবেন। আর বাইরের লোকদের কাছেও তাঁর সুনাম থাকা আবশ্যক, পাছে নিন্দার পাত্র হন ও দিবালয়ের ফাঁদে না পড়েন।’ ১ তীমথিয় ৩ঃ২-৭।

‘কেননা বিশপ আল্লাহ্‌র ধনাধ্যক্ষ হিসেবে অনিন্দনীয় হবেন। তিনি যেন স্বেচ্ছাচারী বা আশুক্রোধী বা মদ্যে আসক্ত বা প্রহারক বা কুৎসিত লাভের লোভী না হন। কিন্তু তিনি যেন মেহমানসেবক, সৎ কাজ ভালবাসেন, সংযত, ন্যায়পরায়ণ, ধার্মিক হন ও নিজেকে দমনে রাখেন। তাঁকে এমন ব্যক্তি হতে হবে যিনি আমাদের শিক্ষা অনুসারে বিশ্বাসযোগ্য কালাম ধরে রাখেন, যেন তিনি নিরাময় শিক্ষায় উপদেশ দিতে এবং বিরুদ্ধবাদীদের যুক্তি খণ্ডন করতে সমর্থ হন।’ তীত ১ঃ৭-৯।

পালকদের কাছে তাদের শ্রোতাদের ঋণ কি

‘এইরূপে প্রভু সুসমাচার প্রচারকদের জন্য এই বিধান করিয়াছেন যে, তাহাদের উপজীবিকা সুসমাচার হইতে হইবে’। ১ করিন্থীয় ৯:১৪।

‘কিন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরের বাক্যের বিষয়ে শিক্ষা পায়, সে শিক্ষককে সমস্ত উত্তম বিষয়ে সহভাগী করুক’। গালাতীয় ৬:৬।

‘যে প্রাচীনেরা উত্তমরূপে শাসন করেন, বিশেষতঃ যাঁহারা বাক্যে ও শিক্ষাদানে পরিশ্রম করেন, তাঁহারা দ্বিগূন সমাদরের যোগ্য গণিত হউন। কারণ শাস্ত্রে বলে, “শস্য মর্দনকারী বলদের মুখে জালতি বাঁধিও না;” কারণ ‘কার্যকারী আপন বেতনের যোগ্য”’। ১ তীমথিয় ৫:১৭-১৮।

‘তোমাদের নেতাদের আদেশ মেনে চলো, তাঁদের কর্তৃত্ত্বের অধীন হও, কারণ তোমাদের আত্মাকে নিরাপদে রাখার জন্য তাঁরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন৷ তাঁদের কথা মেনে চলো কারণ তাঁদের এ ব্যাপারে হিসেব নিকেশ করতে হবে, যাতে তাঁরা আনন্দে এই কাজ করতে পারেন, যন্ত্রণা ও দুঃখ নিয়ে নয়৷ তাঁদের কাজকে কঠিন করে তুললে তোমাদের লাভ হবে না৷’ হিব্রু ১৩ঃ১৭-১৮।

জনগণের সরকার

প্রত্যেক প্রাণী প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষদের বশীভুত হউক; কেননা ঈশ্বরের নিরূপণ ব্যতিরেকে কর্তৃত্ব হয় না; এবং যে সকল কর্তৃপক্ষ আছেন, তাঁহারা ঈশ্বর নিযুক্ত। অতএব যে কেহ কর্তৃত্বের প্রতিরোধী হয়, সে ঈশ্বরের নিয়োগের প্রতিরোধ করে; আর যাহারা প্রতিরোধ করে, তাহারা আপনাদের উপরে বিচারাজ্ঞা প্রাপ্ত হইবে। কেননা শাসনকর্তারা সৎকার্যের প্রতি নয়, কিন্তু মন্দ কার্যের প্রতি ভয়াবহ। আর তুমি কি কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ভয় হইতে চাহ? সদাচরণ কর, করিলে তাহার নিকট হইতে প্রশংসা পাইবে। কেননা সদাচরণের নিমিত্ত তিনি তোমার পক্ষে ঈশ্বরেরই পরিচারক, কিন্তু যদি মন্দ আচরণ কর, তবে ভীত হও, কেননা তিনি বৃথায় খড়গ ধারণ করেন না; কারণ তিনি ঈশ্বরের পরিচারক, যে মন্দ আচরণ করে, ক্রোধ সাধনের জন্য তাহার প্রতিশোধদাতা রোমীয় ১৩: ১-৪।

নাগরিকগণ

‘তখন তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তবে কৈসরের যাহা যাহা, কৈসরকে দেও, আর ঈশ্বরের যাহা যাহা, ঈশ্বরকে দেও।’ মথি ২২: ২১।

‘অতএব কেবল ক্রোধের ভযে নয়, বিবেকেরও নিমিত্ত বশীভুত হওয়া আবশ্যক। কারণ এই জন্য তোমরা রাজ করও দিয়া থাক; কেননা তাঁহারা ঈশ্বরের সেবাকারী, সেই কার্যে নিবিষ্ট রহিয়াছেন। যাহার যাহা প্রাপ্য, তাহাকে তাহা দেও। যাঁহাকে কর দিতে হয়, কর দেও; যাঁহাকে শুল্ক দিতে হয়, শুল্ক দেও; যাঁহাকে ভয় করিতে হয়, ভয় কর; যাঁহাকে সমাদর করিতে হয়, সমাদর কর’। রোমীয় ১৩: ৫-৭।

‘আমার সর্বপ্রথম নিবেদন এই, যেন সকল মনুষ্যের নিমিত্ত, বিনতি, প্রার্থনা, অনুরোধ, ধন্যবাদ করা হয়; [বিশেষতঃ] রাজাদের ও উচ্চপদস্থ সকলের নিমিত্ত; যেন আমরা সম্পূর্ণ ভক্তিতে ও ধীরতায় নিরুদ্বেগ ও প্রশান্ত জীবন যাপন করতে পারি। তাহাই আমাদের ত্রাণকর্তা ঈশ্বরের সম্মুখে উত্তম ও গ্রাহ্য’। ১ তীমথিয় ২:১-৩।

‘তুমি তাহাদিগকে স্মরণ করিয়ে দাও যেন তারা তারা শাসনকর্তা ও যাদের হাতে ক্ষমতা আছে তাহাদের অধীনে থাকে, বাধ্য হয় এবং সমস্ত রকম সৎকর্মের জন্য প্রস্তুত থাকে। তাহারা যেন কারো নিন্দা না করে, নির্বিরোধ ও শান্ত স্বভাব বিশিষ্ট হয় এবং সকল মানুষের কাছে সমপূর্ণ মৃদুতা দেখায়’। তীত ৩:১-২।

তোমরা প্রভুর জন্য মানব-সৃষ্ট সমস্ত নিয়োগের বশীভূত হও, সম্রাটের অধীনতা স্বীকার কর, তিনি প্রধান; শাসনকর্তাদের অধীনে থাক, তাঁহারা দুরাচারীদের প্রতিফল দেবার ও যারা সৎকর্ম করে তাদের প্রশংসার জন্য সম্রাট কর্তৃক প্রেরিত। কেননা ঈশ্বরের ইচ্ছা এই, যেন এভাবে তোমরা সদাচরণ করতে করতে নির্বোধ মানুষের অজ্ঞানতাকে নিরুত্তর কর।(১ পিতর ২: ১৩-১৫)।

স্বামীগণ

‘তদ্রুপ, হে স্বামিগণ, স্ত্রীলোক অপেক্ষাকৃত দুর্বল পাত্র বলিয়া তাহাদের সহিত জ্ঞানপূর্বক বাস কর, তাহাদিগকে আপনাদের সহিত জীবনের অনুগ্রহের সহাধিকারিণী জানিয়া সামাদর কর; যেন তোমাদের প্রার্থনা রুদ্ধ না হয়’। ১ পিতর ৩:৭।

‘স্বামীরা, তোমরা আপন আপন স্ত্রীকে প্রেম কর, তাহাদের প্রতি কটু ব্যবহার করিও না’। কলসীয় ৩:১৯ পদ।

স্ত্রীগণ

‘নারীগণ তোমরা যেমন প্রভুর, তেমনি নিজ নিজ স্বামীর বশীভুত হও’। ইফিষীয় ৫:২২ পদ।

‘কেননা পূর্বকালের যে পবিত্র নারীগণ ঈশ্বরের প্রত্যাশা রাখিতেন, তাঁহারাও সেই প্রকারে আপনাদিগকে ভুষিত করিতেন, আপন আপন স্বামীর বশীভুত হইতেন; যেমন সারা অব্রাহামের আজ্ঞা মানিতেন, নাথ বলিয়া ডাকিতেন; তোমরা যদি সদাচারণ কর ও কোন মহাভয়ে ভীত না হও, তবে তাঁহারই সন্তান হইয়া উঠিয়াছ’। ১ পিতর ৩:১, ৬ পদ।

পিতামাতাগণ

‘আর পিতারা, তোমরা আপন আপন সন্তানদিগকে ক্রুদ্ধ করিও না, বরং প্রভুর শাসনে ও চেতনা প্রদানে তাহাদিগকে মানুষ করিয়া তুল’। ইফিষীয় ৬: ৪ পদ।

সন্তানেরা

‘সন্তানেরা, তোমরা প্রভুতে পিতামাতার আজ্ঞাবহ হও, কেননা তাহা ন্যায্য। “তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর কিরও,” –এত প্রতিজ্ঞাসহযুক্ত প্রথম আজ্ঞা- “যেন তোমার মঙ্গল হয়, এবং তুমি দেশে দীর্ঘায়ু হও।”’ ইফিষীয় ৬:১-৩ পদ।

পুরুষ এবং মহিলা দাসগণ, ভাড়াটে লোক এবং শ্রমজীবীদের জন্য।

‘দাসেরা, তোমরা যেমন খ্রীষ্টের আজ্ঞাবহ, তেমনি ভয় ও কম্ম সহকারে, তোমাদের অন্তঃকরণের সরলতায়, মাংস অনুযায়ী আপন আপন প্রভুদের আজ্ঞাবহ হও; মনুষ্যের তুষ্টিকরের ন্যায় চাক্ষুষ সেবা না করিয়া, বরং খ্রীষ্টের দাসের ন্যায় প্রাণের সহিত ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করিতেছ বলিয়া, মনুষ্যের সেবা নয়, বরং প্রভুরই সেবা করিতেছে বলিয়া, প্রণয় ভাবেই দাস্যকর্ম কর; জানিও, কোন সৎকর্ম করিলে প্রত্যেক ব্যক্তি, সে দাস হউক কি স্বাধীন হউক, প্রভু হইতে তাহার ফল পাইবে’। ইফিষীয় ৬:৫-৮ পদ।

আরও দেখুন কলসীয় ৩ঃ২২-২৪।

মালিকগণ

‘আর প্রভুগণ, তোমরা তাহাদের প্রতি তদ্রুপ ব্যবহার কর, ভৎসনা ত্যাগ কর, জানিও, তাহাদের এবং তোমাদেরও প্রভু স্বর্গে আছেন, আর তিনি কাহারাও মুখাপেক্ষা করেন না’। ইফষীয় ৬:৯ পদ।

‘প্রভুগণ, তোমরা গোলামদের প্রতি ন্যায় ও সৎ ব্যবহার কর, এই কথা জেনো যে, তোমাদেরও এক প্রভু স্বর্গে আছেন।’ কলসীয় ৪ঃ১।

সাধারণ যুবক-যুবতীগণ

‘তদ্রপ হে যুবকেরা, তোমরা প্রাচীনদের বশীভুত হও; আর তোমরা সকলেই এক জন অন্যের সেবার্থে নম্রতায় কটি বন্ধন কর, কেননা “ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদিগকে অনুগ্রহ প্রদান করেন”’। ১ পিতর ৫:৫-৬ পদ।

বিধবাগণ

‘যে প্রকৃত বিধবা ও অনাথা, সে ঈশ্বরের উপরে প্রত্যাশা রাখিয়া রাত দিন বিনতি ও প্রার্থনায় নিবিষ্ট থাকে। কিন্তু যে বিলাসিনী, সে জীবদ্দশায় মৃতা’। ১ তীমথিয় ৫:৫-৬ পদ।

সকল খ্রীষ্টিয়ানগণ

‘তোমরা পরসপরের কাছ মহব্বতের ঋণ ছাড়া আর কোনও ঋণে আবদ্ধ হয়ো না; কেননা পরকে যে মহব্বত করে, সে শরীয়ত পূর্ণরূপে পালন করেছে। কারণ “জেনা করো না, খুন করো না, চুরি করো না, লোভ করো না,” এবং আর যে কোন হুকুম থাকুক, সেই সব নিয়ে একত্রে বলা হয়েছে, “প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করো।”’ রোমীয় ১৩ঃ৮-৯।

‘আমার সর্বপ্রথম নিবেদন এই, যেন সকল মানুষের জন্য ফরিয়াদ, প্রার্থনা, অনুরোধ, শুকরিয়া করা হয়’। ১ তীমথিয় ২:১।

আসুন যত্নের সঙ্গে প্রতিটি পাঠ শিখি,

আর সকল পরিবারকে সুন্দর করে ঈশ্বর ভয়ে গড়ি।